Showing posts with label মোবাইল দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানো. Show all posts
Showing posts with label মোবাইল দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানো. Show all posts

Sunday, 23 June 2019

আপনার শিশু কি মোবাইল দেখতে দেখতে খায় ? কতটা ক্ষতিকর জেনে নিন

                                 
                           এই আধুনিক যুগে আমাদের জীবনে এক অপরিহার্য সঙ্গী হলো মোবাইল ফোন । অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্র যেটা ছাড়া আমরা আমাদের জীবন ভাবতেও পারিনা । স্মার্টফোন মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট কানেকশন আজকে চাইই চাই।
                            এর অনেকগুলি কাজের মধ্যে আরেকটি কাজ নতুন সংযোজন হয়েছে শিশুকে ভুলিয়ে রাখা । 1-2 বছরের বাচ্ছার হাতেও মোবাইল ফোন বা ট্যাব ।  স্মার্ট ফোনের যুগে শিশুরাও যেমন স্মার্ট তাদের মায়েরাও আরো বেশি স্মার্ট। বাচ্ছা খেতে চাইছে না , খেতে খেতে ঘ্যান ঘ্যান করছে - দাওয়াই হাতের সামনেই আছে - মোবাইল বা ট্যাব । চালিয়ে দাও কার্টুন , শিশুদের গান বা শিশুদের জন্যে তৈরী ভিডিও ক্লিপিংস - ব্যাস কেল্লা ফতে ।  বাচ্ছা হা করে খাবার খাচ্ছে বটে কিন্তু মন দিয়ে গিলছে ওই মোবাইল নামক বস্তুর থেকে প্রাপ্ত entertainment ।  যাই হোক বাবা মা খুশি , বাড়ির সবাই খুশি - আমার বাচ্ছা সব খেয়ে নেয়; শুধু মোবাইল এ ভিডিও চালিয়ে দিতে হবে ।
                              সত্যিই কি খুব খুশির খবর এটা। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অন্য কথা বলছে । খেতে খেতে মোবাইল দেখার অভ্যাস যথেষ্ট ক্ষতিকারক । প্রাথমিক ভাবে হয়তো শিশু খাবার খেয়ে নিচ্ছে , কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই ।

খেতে খেতে মোবাইল এর অভ্যাস শিশুদের কি কি ক্ষতি করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকার :-

1. ছোট শিশুদের কাছে খাবার খাওয়া একটি নতুন অভিজ্ঞতা । নতুন নতুন খাবার এর সাথে শিশুর পরিচয় হওয়া , খাবার স্বাদ গ্রহণ করা এগুলি সব ই শিশু ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে । কিন্তু মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ালে শিশুর সমস্ত মনোযোগ থাকে সেই দিকে খাবার এর দিকে নয় । ফলে খাবারের সাথে শিশুর সংযোগ - ঘনিষ্ঠতা - ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যায় । মোবাইল দেখার নেশায় সে যন্ত্রের মতন শুধু খাবার খায় , আত্মস্থ করে না।

2. মোবাইল দেখলে তবে খাবে নাহলে বাচ্ছা খাবার খাবেই না । এর অর্থ সে মোবাইল এর সাথে Conditioning হয়ে গেছে । ফলে যখন মোবাইল দেখানো হবে না সে খেতেই চাইবে না ।

3. মোবাইল এ শিশু যা দেখে তার একটি আসক্তিমূলক উপাদান বা addictive component আছে , যা শিশুকে মোবাইল নির্ভরশীল করে তুলছে ।

4. শিশু বড় হবার সাথে যত বেশি করে বাইরের পরিবেশের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখবে ততই তার বিকাশ ভালো হবে । কিন্তু external world এর সাথে যত  সম্পর্ক কমবে তার মস্তিস্ক কম বিকশিত হবে এবং শিশুর Physical ও Psychological  বৃদ্ধির ও ব্যাঘাত ঘটবে । খেতে খেতে যে মোবাইল এর আসক্তি জন্মাচ্ছে সেটির ফলে শিশুর external connection যেমন খেলাধুলা বন্ধ হলে উপরের সমস্যা গুলিও হতে পারে ।

5. 1-2 বছরের শিশুর মোবাইল দেখিয়ে খাবার অভ্যাস আস্তে আস্তে 4-5 বছরের শিশুর আসক্তিতে পরিণত হবে । মোবাইল এর প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়বে । ফলে শিশুর normal growth & skill এর ব্যাঘাত ঘটবে যেমন - শিশু খেলাধুলা , বই পড়া , বন্ধু তৈরী করা , সামাজিক মেলামেশা ইত্যাদি করতে পারবে না । বয়ঃসন্ধিক্ষণে এই আসক্তি আরো বাড়বে । শিশুর Social Skill একদম নষ্ট হয়ে যাবে ।
                       একটু বাচ্ছা যখন বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে তখন সে বাইরের পরিবেশের সাথে পরিচিত হয়। অন্য বাচ্ছাদের সাথে খেলা , মেশা , ঝগড়া করা , বন্ধুত্ব করা ইত্যাদির মাধ্যমেই গড়ে ওঠে Social Skill , Problem Solving Ability ইত্যাদি। কিভাবে অন্য মানুষের সাথে সংযোগ করবো , কিভাবে কথা বলবো , কিভাবে ছোট ছোট সমস্যা নিজে বা বন্ধুদের সাথে মিলে সমাধান করবো , কিভাবে Peer group তৈরী করবো  ইত্যাদি skill গুলি আমাদের শিখতে হয় এবং এই সব শেখার প্রাথমিক ধাপ শুরু হয় শিশু বয়স থেকেই । তাই Social Skill বা সামাজিক দক্ষতা তখন ই বাড়বে বা তৈরী হবে যখন শিশু ছোট থেকেই বাইরের পরিবেশের সাথে একাত্ম হবে ।

6. মোবাইল এ ভিডিও দেখা বা গেম খেলার সব কিছুতেই Repeat option আছে। অর্থে বারে বারে ওই এক ই কাজ করা যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে এই সুযোগ থাকেনা , বাস্তব জীবনে খেলাধুলাতেও challenges বেশি। তাই শিশুর কাছে মোবাইল অনেক সহজ বোধ হয় খেলাধুলার তুলনায় । এর ফলে শিশুর মানসিক বোধশক্তি সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং বাড়তে পারে না ।
                               

7. Failure is the Piller of Life . মোবাইল এর জগতে ফেল হলেও খুব সহজেই আবার পাস করা যায় কিন্তু বাস্তব জীবনে যা খুব সহজ নয় । ফলে বাস্তবে fail হলে শিশু সেটা কাটিয়ে উঠতে পারে না ।

8. বহির্জগতের প্রতি যত সম্পর্ক কমবে শিশুর সামাজিক বৃদ্ধি , Emotional Intelligence ততই কমবে ।

9. খাবার খাওয়াই বাচ্ছার কাছে একটি entertainment বা আনন্দের কাজ । এটাকে সে উপভোগ করতে করতেই শিখতে পারে । প্রতিটি খাবার এর স্বাদ , তার রং , গন্ধ , মুখে দিলে কেমন লাগছে - এগুলি শিশু ধীরে ধীরে আত্মস্থ করে । এই আত্মস্থ করার মধ্যেও শেখার আনন্দ থাকে । এইভাবে প্রতিটি খাবার এর সাথে শিশুর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে । কিন্তু মোবাইল দেখতে দেখতে খেলে তার মনোযোগ পুরো পুরি খাবার থেকে সরে যায় ।  তাই খাবার এর সাথে আর শিশুর সম্পর্ক আর গড়ে ওঠে না ।

10. মোবাইল দেখেই হোক বাচ্ছা তো খাচ্ছে । তাই পুষ্টি তো পাচ্ছে । কিন্তু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে সব কিছুই আমাদের মনের সাথে সম্পর্ক যুক্ত । তাই মোবাইল দেখে খাওয়ার একটি নেতিবাচক মানসিক প্রভাব থাকবেই যা শিশুর পুষ্টিতে প্রভাব ফেলতে বাধ্য ।

                                  শিশু সব কিছুই শেখে তার জন্মের পর । আমরা তাকে যা শেখাবো , সেটাই সে শিখবে । তাই আমরা তাকে কিভাবে শেখাচ্ছি সেটা খুব  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোবাইল আসার আগেও শিশুরা খেতে চাইতো না এবং ঘ্যান ঘ্যান করতো ; তখন ও বাবা মা এরা শিশুকে কবিতা বলে , গান শুনিয়ে , বাগান এ ঘুরিয়ে , ফুল দেখতে দেখতে নানান ভাবে ভুলিয়ে খাওয়াতো ; যার কোনো সুদূরপ্রসারী খারাপ প্রভাব থাকতো না । মোবাইল ব্যবহার না করে দেখুন না অন্য কোনো পন্থা ব্যবহার করে যা শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে।